Monday, June 19, 2023

"বর্তমান পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়": জি এম কাদের

👉 জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, দেশের বর্তমান শাসন পদ্ধতিতে শতকরা একশ ভাগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রিসভা ও সংসদ পরিবর্তন করে কোনো লাভ নেই।নিজের অধীনে নির্বাচনে কেউ পরাজিত হতে চাইবে, তা আশা করা পাগলামি। বর্তমান পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব ২ খন্দকার দেলোয়ার জালালী উপস্থিত ছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সরকারের ক্ষমতার বাইরে আনতে হবে। ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ সবাই এরশাদ সাহেবের বিপক্ষে আন্দোলন করে। আবার বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ সবাই আন্দোলন করে ১৯৯৬ সালে, যখন বিএনপি নির্বাচন ব্যবস্থা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল।  

১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন চিরস্থায়ীভাবে আমরা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চাই। ২০০৬ সালের পর বিএনপি যখন আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে চেয়েছিল তখনো জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগসহ সবাই মিলে আন্দোলন করেছিলাম। পরে ওয়ান ইলেভেন সরকার আসে।  

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধান অনযায়ী নির্বাচন করতে হবে এর কোনো অর্থ নেই। কারণ, ১৯৯১ সালে ও ২০০৮ সালে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়নি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সবসময় সংবিধান মানেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে ব্যবস্থা ছিল, তাও এখন বাতিল হয়েছে। তাই, এখন একটি নতুন ব্যবস্থা করা জরুরি, কোনো সরকার যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে না পারে। 

 তিনি বলেন, সরকার যদি আগ্রহ দেখায় অথবা সবাই যদি একটি ফর্মুলায় আসতে চায়, তবে আমরাও একটি প্রস্তাব দেব। আমরা যে প্রস্তাব দেব, তা শতভাগ গ্রহণযোগ্য হতে নাও পারে। তবে, সবার আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে। সেজন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।     

আওয়ামী লীগ প্লাস বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই। যদি গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বলি, গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। আর রাজতন্ত্র যদি হয়, গভর্নমেন্ট অব দ্য কিং, বাই দ্য কিং, ফর দ্য কিং। এখন আমাদের দেশে গভর্নমেন্ট অব দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস, বাই দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস, ফর দ্য আওয়ামী লীগ প্লাস।  

Sunday, June 18, 2023

জল্লাদ শাহজাহান এর কারামুক্তি।

👉 জল্লাদ শাহজাহান বলেন, আমার কোনো বাড়িঘর নেই। শুনেছি আমার এক বোন ও ভাগিনা আছে। তবে তাদের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। তবে এখন আমি বসুন্ধরার নর্দ্দা এলাকায় একজনের বাসায় যাচ্ছি। কারাগারে থাকার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।

কারাগারে ২৬ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া মুক্তি পেয়েছেন। তবে কোথায় যাবেন, কী করবেন তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

শাহজাহান তার সাজা থেকে ১০ বছর পাঁচ মাস ২৮ দিন ক্ষমা পেয়েছেন। তাই ৩১ বছর ছয় মাস সাত দিন কারাভোগ করে রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।

শাহজাহানের বের মুক্তির বিষয়ে ঢাকা কেরানীগঞ্জের জেলার মাহবুবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শাহজাহান এ পর্যন্ত ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন। এতে প্রতি ফাঁসির জন্য তার দুই মাস করে শাস্তি মওকুফ হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া জেলে কেউ ভালো কাজ না করলে, কারও শাস্তি মওকুফ করা হয় না। তবে শাহজাহান জেলে থাকা অবস্থায় ভালো কাজ করে ১০ বছর পাঁচ মাস সাজা কমিয়েছেন।

জেল থেকে বের হয়ে শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, আমি অপরাধ করেছি। সে জন্য জেলে এসেছি, সাজা ভোগ করেছি। আপনারা এখন আমার প্রতি মায়া দেখাচ্ছেন, লোকটা এত বছর জেল খেটেছে।

তিনি বলেন, আমার পেছনের দিকটা যদি আপনারা টান দেন। তাহলে দেখবেন আমি অতীতে কেমন ছিলাম। এখন আমি মায়ের গর্ভের থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার মতো অতীতের সবকিছু ভুলে গেছি। এখন আমি কীভাবে আগামী দিনে চলবো, থাকবো সেটা হচ্ছে বিষয়।

এ সময় তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার বাড়ি, ঘর নেই। এত বছর জেল খাটার পর আমার কিছুই নেই। আমি যে এখন আমি কারাগার থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়িতেও যাচ্ছি না। আমি আরেকজনের বাড়িতে গিয়ে উঠছি এখন। আমি এখন কী করে খাবো? কোথায় যাবো? কী করবো? আমার এখন আর কিছু করার বয়স নেই।

জল্লাদ শাহজাহান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটিই আবেদন, আমাকে যেন বাড়ি-ঘর ও একটি কর্মসংস্থান দিয়ে চলার মতো কিছু করে দেন। এটিই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন।

২৬ জন আসামিকে ফাঁসি দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি বিচার প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে সাজা ভোগ করছিলাম। তাই কারাগারে নিয়ম অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কোনো না কোন কাজ করতে হয়। আমি একটু সাহসী ছিলাম বলে আমাকে জল্লাদের কাজে নিয়োগ করা হয়। এসব ফাঁসি আমার সিদ্ধান্তে আমি দেইনি, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দিয়েছি।

কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তিনি এখন কোথায় যাবেন প্রশ্ন করা হলে জল্লাদ শাহজাহান বলেন, আমার কোনো বাড়িঘর নেই। শুনেছি আমার এক বোন ও ভাগিনা আছে। তাদের সাথে ফোনে দু-,তিন বার কথা হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। তবে এখন আমি বসুন্ধরার নর্দ্দা এলাকায় একজনের বাসায় যাচ্ছি। কারাগারে থাকার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, জল্লাদ শাহজাহানের পুরো নাম শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি নরসিংদী জেলার পলাশ থানার ইছাখালী গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে। ৭৩ বছর বয়সী শাহজাহান ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত। কারাগারে তার কয়েদি নম্বর ছিল ২৫৮৯/এ এবং মুক্তির আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান জল্লাদ ছিলেন

রেকর্ড অনুযায়ী, দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শাহজাহান। একটি ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা মামলা এবং আরেকটি অস্ত্র আইনে মামলা। ১৯৯১ সালের ১৭ মে থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি। দুই মামলায় তার ৪২ বছরের সাজা হয়েছিল।

ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে, বাস থেকে লাফিয়ে পড়া পোশাককর্মীর মৃত্যু

 কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন জানান, শামছুন্নাহারের মাথার আঘাত গুরুতর ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ষণচেষ্টার সম্মুখীন হয়ে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেয়া নারী পোশাককর্মী মারা গেছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোছা. শামছুন্নাহার নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন জানান, শামছুন্নাহারের মাথার আঘাত গুরুতর ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মাওনা থেকে রিদিশা ফ্যাক্টরির গার্মেন্টকর্মী দুই সন্তানের জননী শামছুন্নাহার বাসে করে ভালুকা ফিরছিলেন।

পথে ভালুকা সীডস্টোর এলাকায় অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে তাকে একা পেয়ে বাসের চালক ও সহকারী ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

এ অবস্থায় নিজেকে রক্ষা করতে বাস থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা সীডস্টোরে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভোরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে চালক-সহকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তারা হলেন বাসচালক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ২১ বছর বয়সী রাকিব, সহকারী ময়মনসিংহের ত্রিশালের রায়মনি এলাকার ২০ বছর বয়সী মো. আরিফ ও সুপারভাইজার একই উপজেলার ১৯ বছর বয়সী আনন্দ দাস। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

Thursday, June 15, 2023

নবজাতকের মৃত্যু: "সেন্ট্রাল হসপিটালের দুই চিকিৎসক গ্রেপ্তার"

 নবজাতকের মা আঁখির অবস্থাও ভালো নয়, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের ‘গাফিলতিতে’ নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধানমণ্ডি থানার ওসি পারভেজ ইসলাম জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাতে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় হাসপাতালের ডা. মুনা ও ডা. শাহাজাদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালক আবুল কাশেম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওরা অ্যারেস্ট হয়েছে। তাদের দুজনকে কাল রাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। আজ কোর্টে চালান দিয়েছে।”

সংবাদমাধ্যমে আসা খবরে বলা হয়, মাহবুবা রহমান আঁখি নামের ২৫ বছর বয়সী এক নারী সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার ভিডিও পরামর্শ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক প্রসবের আশায় গ্রিনরোডের ওই হাসপাতালে যান।

হাসপাতালে তাকে সেই চিকিৎসকের অধীনে ভর্তি করা হলেও ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না। অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচর করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি।

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুবা রহমান আঁখির অবস্থাও ভালো নয়। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তিনি আছেন ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে।

আঁখির স্বামী মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করেছেন।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে চিকিৎসক মুনা, শাহজাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা হলেন ডা. মিলি, ডা. এহসান, অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার সহকারী জমির এবং হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজ।

ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, সংযুক্তা সাহার অনুপস্থিতির বিষয়টি না জানিয়েই সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করে। সেখানে ‘গাফিলতির’ কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়, তার স্ত্রীকে আশংকাজনক অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে বলে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি সন্তানের মৃত্যুর চারদিনেও তার লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাহাবুবা রহমান আঁখি গর্ভধারণের পর থেকেই সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৯ জুন তার প্রসব বেদনা উঠলে ইয়াকুব আলী রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংযুক্তা সাহার সহকারী জমিরেরর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানতে চান ওই চিকিৎসক হাসপাতালে আছেন কি না। জমির তাকেবলেন, ডা. সংযুক্তা সাহা হাসপাতালেই আছেন, ইয়াকুব যেন দ্রুত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে চলে আসেন।

সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে পৌঁছান ইয়াকুব। সংযুক্তা সাহার চেম্বারের সামনে রোগী নিয়ে যাওয়ার পর ডা. মুনাসহ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী প্রসূতিকে লেবার ওয়ার্ডে নিয়ে যান। ডা. সংযুক্তা সাহা লেবার ওয়ার্ডে রয়েছেন বলে সে সময় ইয়াকুবকে জানানো হয়।

লেবার ওয়ার্ডে নেওয়ার পর ভেতর থেকে একজন নার্স বের হয়ে আঁখিকে ভর্তি করাতে বলেন। তখনি ইয়াকুব হাসপাতালের কাউন্টারে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সংযুক্তা সাহার অধীনে মাহাবুবাকে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করেন।

ভর্তি শেষে লেবার ওয়ার্ডে ফিরে ইয়াকুব স্ত্রীর অবস্থা জানতে চান, সংযুক্তা সাহার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা গড়িমসি করতে থাকে বলে তার ভাষ্য।

এজাহারে বলা হয়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ইয়কুব রাত সোয়া ১টার দিকে জোর করে লেবার ওয়ার্ডে ঢুকে দেখতে পান, কয়েকজন নার্স মিলে তার স্ত্রী আঁখিকে হাঁটাচ্ছেন। ইয়াকুব জানতে চান, ডা. সংযুক্তা সাহা কোথায়। নার্সরা প্রশ্ন এড়িয়ে তাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন।

বাদী মামলায় বলেছেন, রাত আড়াইটার দিকে ডা. শাহজাদী লেবার ওয়ার্ড থেকে বের করে মাহাবুবাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। ডা. এহসানও ‍ওটিতে ঢোকেন। পরে ডা. শাহজাদী সিজারিয়ান অপারেশন শেষ করে নবজাতককে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালের এনআইসিইউতে নিয়ে যান। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওটি থেকে নার্স বের হয়ে জানান, আঁখির অবস্থা আশংকাজনক।

এজাহারে বলা হয়, সেই নার্স কিছু কাগজপত্র এনে তাতে স্বাক্ষর করতে বলেন ইয়াকুবকে। তা না হলে তার স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসা দেওয়া হবে না বলে জানান। ইয়াকুব ওইসব কাগজে স্বাক্ষর করেন। ভোর পৌনে ৫টার দিকে তার স্ত্রীকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

ইয়াকুব বলছেন, ওই সময় তিনি সেন্ট্রাল হাসপাতালের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজকে মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানান। পরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলে হাসপাতাল থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে মাহাবুবাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে বলে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।  



Wednesday, June 14, 2023

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত মনে করি না: কাদের

 বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিদেশি চাপ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তার অসুস্থতা নিয়ে যতটা না তারা উদ্বেগ করেছে, তাকে নিয়ে রাজনীতির চর্চা করেছে বেশি। যখন খালেদা জিয়ার বিচার চলছিল তখন অহেতুক অনুপস্থিত থেকে বিচারকে বিলম্বিত করতে চেয়েছে।’


বাংলাদেশ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত নয়।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে বুধবার রোড সেফটি প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ৬ আইনপ্রণেতা সোমবার চিঠি পাঠান ইইউর কাছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। অন্য দেশেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত মনে করি না। সরকার কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি; করবেও না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিদেশি চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তার অসুস্থতা নিয়ে যতটা না তারা উদ্বেগ করেছে, তাকে নিয়ে রাজনীতির চর্চা করেছে বেশি। যখন খালেদা জিয়ার বিচার চলছিল তখন অহেতুক অনুপস্থিত থেকে বিচারকে বিলম্বিত করতে চেয়েছে।

‘এমন কোন আইনি লড়াই করতে পারেনি, আন্দোলন করতে পারেনি যেটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আওয়ামী লীগ বেগম জিয়াকে জেলে রেখেছে, তত্ত্বাবধায়ক বাদ দিয়েছে—বিএনপির দুটি অভিযোগই মিথ্যা।’

ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘সেখানে ৬ জানুয়ারি গণতন্ত্রের নামে কী হলো? ছয়টি প্রাণ গেল। ডনাল্ড ট্রাম্প এখনও নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। সবাই মুখে যে গণতন্ত্রের কথা বলছে, বাস্তবে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ খুজে পাওয়া দুষ্কর।

‘কিছু না কিছু ত্রুটি আছে। আমাদের গণতন্ত্রও সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত বলছি না। ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করছি। নির্বাচন কমিশনকে আইন করে স্বাধীন করা হয়েছে।’

বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি কতটা জনপ্রিয় প্রমাণ করতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে।’

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ দাবি করে কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল নিজে ব্যর্থ। সবার আগে বিএনপি নেতৃত্বের টপ টু বটম পদত্যাগ করা দরকার।

‘দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন তারা করতে পারেনি। বিএনপির ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। দেশের গণতন্ত্র আনবে কীভাবে?’

জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিষয়টি উচ্চ আদালতে আছে। চূড়ান্ত রায় আসেনি। সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

‘দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি আছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।’



Tuesday, June 13, 2023

"চবিতে যৌন নিপীড়ন !" ফের নিরাপত্তাহীনতায় সেই ছাত্রী,জামিন পেয়ে ক্যাম্পাসে আসামিরা।

 "বহিস্কৃত হয়েও জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ক্যাম্পাসে ফিরেছে আসামিরা। ভুক্তভোগীর ছাত্রীর দেখা পেলেই বন্ধুবান্ধব সঙ্গে নিয়ে উত্যক্ত করছে তারা।"


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে জড়িত পাঁচ আসামি জামিনে ছাড়া পেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন। শুধু তাই নয়, তারা সংগঠিত হয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে নিপীড়নের শিকার ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে প্রক্টরকে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রী। গত ২৯ এপ্রিল পুনরায় হেনস্তার শিকার হয়ে প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

এরপর সোমবার দেয়া এক লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী লেখেন, ‘গত ২৯ এপ্রিল একদল ছেলে আমাকে আবার হেনস্তার চেষ্টা করে এবং সেই বিষয়ে আমি আপনাকে (প্রক্টরকে) সে সময়েই অবগত করেছি। সে সঙ্গে ৩০ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। সেই ঘটনা নিয়ে সেদিন থেকেই সেই নিপীড়ক মহল অনলাইনে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে, হুমকি এবং বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে, এগুলো স্পষ্টই আইনের লংঘন এবং কিছু মন্তব্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

তিনি আরও লেখেন, ‘অপরাধীরা যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আদালতে সাক্ষ্য পর্যন্ত দিয়েছে, তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করছে এবং বিভিন্নভাবে আকারে ইঙ্গিতে আমাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছে। যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটার পরে যে কারও মানসিক অবস্থা যদি ন্যূনতম বিবেচনা করা হয়, তাহলেই বুঝতে পারা যায় অপরাধীদের এরকম অঙ্গভঙ্গি কিংবা অবাধে চলাফেরা আমাকে কতটা অনিরাপদ বোধ করায় এবং আমার মানসিক অবস্থার কতটা ক্ষতি করে। যেখানে অপরাধীরা অবাধে চলাফেরা করছে, প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমার ক্ষতি সাধন করবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং আমার নিরাপত্তাও নিশ্চিত নয়। আমি অবিলম্বে অপরাধীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

যৌন হেনস্তার শিকার ওই ছাত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিরা ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করছে। তারা আমার হলের সামনেও ঘোরাফেরা করছে। তারা আমাকে টিজ করছে, হল থেকে বের হলে আমাকে ইঙ্গিত করে আশেপাশের মানুষদের দেখিয়ে দিচ্ছে। তাদের কাছের মানুষজন আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে, সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছে।

‘অন্যদিকে তাদের জামিনের বিষয়ে আমার আইনজীবীও আমাকে কিছু জানাননি, আমাকে সাবধান বা হুঁশিয়ারও করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় দাবি ছিল অপরাধীরা ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না। কিন্তু সে দাবি মানাই হচ্ছে না, উল্টো আমাকে টিজ করে তারা চলে যাচ্ছে। এই বিষয়ে কারও কোনো পদক্ষেপ দেখছি না৷ আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে একটা তদন্ত কমিটি করেছি। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল মনছুর বলেন, ‘আমরা আজকে বৈঠক করেছি, ওই ছাত্রীর সাক্ষাতকার নিয়েছি। সে যাদের নামে অভিযোগ করেছে, তাদের নামের তালিকা করেছি।

‘তাদের (অভিযুক্তদের) আমরা ডাকব, জিজ্ঞাসবাদ করব। মেয়েটির অভিযোগ শুনে প্রক্টরিয়াল বডিকে বলেছি, যারা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

২০২২ সালের ১৭ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ‘হতাশার মোড়’ থেকে হলে ফেরার পথে এক ছাত্রী ও তার বন্ধুকে আটকে বোটানিকেল গার্ডেন এলাকায় নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন কয়েকজন। এ সময় ওই ছাত্রীকে মারধর ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে নিপীড়নকারীরা।

যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। সেই পাঁচজন হলেন- চবির ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আজিম হোসাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নুরুল আবছার বাবু, হাটহাজারী কলেজের ছাত্র নুর হোসেন শাওন, মাসুদ রানা ও সাইফুল।

তাদের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের আজিম হোসাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নুরুল আবছার বাবুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

তাদের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় মামলা করে ওই ছাত্রী। পাশাপাশি যৌন নিপীড়নে জড়িত আসামিদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিষদ্ধ করে চবি প্রশাসন।

সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মঙ্গলবার সকাল ১০:১৪ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার সকালে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেনেভায় ১৪ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এই সামিট অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‘দ্য ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ২০২৩: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’ হলো সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থনে বর্ধিত, সমন্বিত ও সুসংগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা মোকাবিলার জন্য বিশ্বনেতাদের আলোচনার একটি উচ্চস্তরের ফোরাম।

এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি গ্লোবাল কোয়ালিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও অবহিত করার সুযোগ দেবে। আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের ৩৪৭তম অধিবেশনে গভর্নিং বডি যেটি গঠন করে।

ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, পানামার সাবেক রাষ্ট্রপতি জুয়ান কার্লোস ভারেলা এবং ২০১৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের অতিথি সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন আরও টেকসই ও ন্যায়সংগত বিশ্ব তৈরিতে সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল ভূমিকাকে তুলে ধরবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে নীতির সুসংগত নিশ্চিত করার বর্ধিত এবং যৌথ পদক্ষেপের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে।

এটি অংশগ্রহণকারীদের সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অগ্রাধিকারগুলো ভাগ করে নেয়ার জন্য তারা যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে তা প্রদর্শন করার একটি ফোরাম তৈরি করবে। এ ছাড়া তারা সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব, আইএলও মহাপরিচালক এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার ইউএনএইচসিআর প্রধান ফ্লিপো গ্র্যান্ডি হোটেল প্রেসিডেন্ট উইলসনের একটি কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি নেশনস-এ সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরসেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকের পরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি নেশনস-এ ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ২০২৩’-এর প্লেনারিতে ভাষণ দেবেন। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন এডিজি এবং আইএলওর আঞ্চলিক পরিচালক। এ ছাড়া গেট থেকে সভাস্থল পর্যন্ত লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অফ অনার থাকবে। মাল্টার প্রেসিডেন্ট ড. জর্জ ভেলার সঙ্গেও বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফের অফিসে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ‘এ টক অ্যাট দ্য ডব্লিউইএফ’-এ যোগ দেবেন। সেখানে শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।

এদিন সন্ধ্যায় ডব্লিউটিও ডিজি ড. ওকোনজো-ইওয়ালা হোটেল প্রেসিডেন্ট উইলসনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া সন্ধ্যায় একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ জুন বেলা ১১টায় জেনেভা ত্যাগ করবেন এবং ১৭ জুন তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র !

যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ (বাঁয়ে) ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অ...